ঋণগ্রস্ত ও রুগ্‌ণ টিসিবি দিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখা সম্ভব কি

নিয়মিত কার্যক্রম চালানোর জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ঋণনির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মূলধন ঘাটতিতে থাকা সংস্থাটির লোকসানের বোঝাও। টিসিবির চলতি

নিয়মিত কার্যক্রম চালানোর জন্য ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) ঋণনির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে মূলধন ঘাটতিতে থাকা সংস্থাটির লোকসানের বোঝাও। টিসিবির চলতি অর্থবছরের অনুমোদিত বাজেটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংস্থাটির মোট দায়ের পরিমাণ ছিল ৩ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। এর পরের দুই অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াতে যাচ্ছে কয়েক গুণে। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে এর পরিমাণ ৯ হাজার ৯৬২ কোটি টাকায় উঠেছে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর তা ১৬ হাজার ২০৩ কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে প্রক্ষেপণ রয়েছে। টিসিবির হিসাবে চলতি অর্থবছর শেষে সংস্থাটির ঋণ-মূলধন অনুপাত দাঁড়াবে ৭৬৫:-৬৬৫-এ (ঋণাত্মক)।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সংস্থাটির ৯ হাজার ৮৬০ কোটি টাকার দীর্ঘমেয়াদি দায় পরিশোধ করার কথা। আর চলতি অর্থবছরে এ দায় পরিশোধ করার কথা ৯ হাজার ৯৪৩ কোটি টাকা। প্রাক্কলন ও প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, এ দুই অর্থবছরে টিসিবির সুদ পরিশোধের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে যথাক্রমে ৮৮৭ কোটি ও ৮৯৫ কোটি টাকার। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংস্থাটি সুদ পরিশোধ করেছে ২৩৪ কোটি টাকা।

টিসিবির কার্যক্রমের পরিধি ও বিক্রীত পণ্যের চাহিদা—দুটোই এখন ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে চলতি মূলধনের সংকটও। পর্যাপ্ত নগদ তহবিল না থাকায় সংস্থাটিকে কেনাকাটা চালাতে হয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে। এসব ঋণের গ্যারান্টার সরকার। আবার প্রক্রিয়াগত কারণে তহবিল জোগানেও সময়ক্ষেপণ হয় অনেক। আবার এ ঋণের সুদহার পরিশোধ করতে গিয়ে পণ্যের দামও কিছুটা বাড়াতে হয় টিসিবিকে।

ঋণদায়ের পাশাপাশি বাড়ছে টিসিবির লোকসানের পরিমাণও। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংস্থাটির নিট লোকসান হয়েছে ১ হাজার ১৪০ কোটি টাকা। আর ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে নিট লোকসান ৬ হাজার ৩৪ কোটিতে দাঁড়িয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসাব করা হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৫ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা নিট লোকসানের প্রাক্কলন রয়েছে। নিট লোকসানের পাশাপাশি স্ফীত হচ্ছে সংস্থাটির তহবিল ঘাটতিও। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংস্থাটির নিট তহবিল ঘাটতি ছিল ১ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। পরের দুই অর্থবছরে তা ৬ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রাক্কলন রয়েছে।

সরকারের কাছে ২০২২-২৩ অর্থবছরে মূলধন বাবদ সুদমুক্ত ১ হাজার কোটি টাকা চেয়েছিল টিসিবি। কিন্তু সে দাবির বিপরীতে কোনো সাড়া দেয়নি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। শুধু মূলধন জোগান নয়, প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বিগত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এসবের মধ্যেও নিয়ম অনুযায়ী সরকারকে সংস্থাটির করপোরেট কর দিতে হচ্ছে ৩৫ শতাংশ। আমদানি শুল্ক, আমদানির ওপর বিক্রয় কর, আয়কর ও অন্যান্য খাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১৭ কোটি ৮৬ লাখ টাকা জমা দিয়েছে টিসিবি। ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫—এ দুই অর্থবছরে তা সম্মিলিতভাবে ৫১ কোটি ১০ লাখ টাকায় দাঁড়ানোর প্রক্ষেপণ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টিসিবির যুগ্ম পরিচালক মো. হুমায়ুন কবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা লোকসানের প্রক্ষেপণ রয়েছে। এখানে লোকসান বলতে পণ্য বিক্রির পর এ পরিমাণ টাকা ঘাটতি হবে। এটি বছর শেষে সরকার আমাদের ভর্তুকি হিসেবে দেবে। টিসিবি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে পণ্য কিনে সেটি স্বল্পমূল্যে বিক্রি করে। এতদিন ঋণের সুদ ছিল ৯ শতাংশ কিন্তু গত বছরের জুলাই থেকে ব্যাংক ঋণের ওপর থেকে সীমা তুলে দেয়া হয়েছে। ফলে ঋণের সুদহার কিছুটা বেড়েছে। এখন যে ব্যাংক কম সুদে ঋণ দিচ্ছে, টিসিবি তাদের থেকে ঋণ নিচ্ছে। এসব ঋণ নেয়া হচ্ছে কয়েকটি ব্যাংক থেকে। এছাড়া ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত করপোরেট কর থেকে টিসিবিকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সরকার থেকে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। সরকার যদি বছরের শুরুতে আমাদের মূলধন জোগান দেয়, তাহলে আর ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার প্রয়োজন পড়বে না। করপোরেট কর এবং ব্যাংক ঋণের সুদ বাবদ খরচ না হলে টিসিবির পণ্যের দাম আরো কমানো সম্ভব হবে।’

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে জনসাধারণকে ন্যায্যমূল্যে ভোগ্যপণ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির এক আদেশবলে গঠিত সংস্থাটির বয়স এখন অর্ধশতাব্দীরও বেশি। এ দীর্ঘ পথচলায় আজও নিজস্ব কোনো সঞ্চয় বা তহবিল গড়ে তুলতে পারেনি সংস্থাটি। উল্টো ক্রমাগত লোকসানের কারণে মূলধন ঘাটতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে টিসিবিকে। নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে না পারা সংস্থাটির জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয়ও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি। দেশে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও জনসাধারণকে কম মূল্যে নির্দিষ্ট কয়েকটি পণ্য সরবরাহের জন্য এখনো সরকারের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক হাতিয়ার টিসিবি। যদিও এ কার্যক্রম চালাতে গিয়ে সংস্থাটিকে নির্ভর করতে হচ্ছে ব্যাংক ঋণ ও সরকারের ভর্তুকির ওপর। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ঋণগ্রস্ত ও আর্থিকভাবে রুগ্‌ণ প্রতিষ্ঠানটিকে দিয়ে বাজার কতটা স্থিতিশীল রাখা সম্ভব, সে বিষয়ে বড় ধরনের সংশয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিত্যপ্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্য যেমন ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল ও আলু সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করে টিসিবি। এছাড়া রমজান উপলক্ষে ছোলা ও খেজুর আমদানি এবং তা দেশব্যাপী ডিলারদের দ্বারা সাশ্রয়ী মূল্যে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে বিক্রয় করে থাকে সংস্থাটি। এসব পণ্যের জন্য টিসিবির ওপর জনসাধারণের নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। দেশে দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে বিপর্যস্ত জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা ও প্রকৃত আয় কমছে। ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে টিসিবির তুলনামূলক কম দামে সরবরাহকৃত পণ্যের চাহিদা।

অর্থসংকট ও সুলভে দ্রুত পণ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আমদানির পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদনকারীদের কাছ থেকেও অনেক পণ্য কেনে টিসিবি। এর ফলে আমদানির মাধ্যমে বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়ানোর উদ্দেশ্যটি পুরোপুরি অর্জিত হচ্ছে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্যমান মডেল অনুসরণ করে মূলধন ঘাটতিতে ভোগা লোকসানি প্রতিষ্ঠান টিসিবির পক্ষে বাজার স্থিতিশীল করা সম্ভব নয়। এ কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে বিক্রি করা পণ্যের দামও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নামিয়ে আনতে পারছে না সংস্থাটি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিসিবি এখনো বৃহদায়তনে পণ্যের ভোক্তামূল্যে প্রভাব ফেলার মতো প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারেনি। এক কোটি নিয়মিত গ্রাহকের বাইরে নতুন প্রেক্ষাপটে কার্ড ছাড়াও সেবা দিতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। কিন্তু এত বড় কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় টিসিবির বাজেটও অপ্রতুল। আবার পণ্য গুদামজাতের সক্ষমতাও নেই বললেই চলে। যেভাবে গ্রাহক সংখ্যা বাড়ছে তাতে করে এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে এত বড় কার্যক্রম পরিচালনা প্রায় অসম্ভব। সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে আর কোনো প্রতিষ্ঠানও নেই। অথচ বিদ্যমান মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে স্বল্প আয়ের মানুষকে সুরক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে সরকারের বড় হাতিয়ার হয়ে ওঠার সুযোগ ছিল টিসিবির। সারা দেশের ৮ হাজার ২৫০ ডিলারের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে সংস্থাটির কার্যক্রম। এছাড়া পণ্য সংরক্ষণের জন্যও পর্যাপ্ত গুদাম নেই টিসিবির। বর্তমানে সংস্থাটির নিজস্ব গুদাম রয়েছে চারটি। এর বাইরে ১১টি গুদাম ভাড়া করে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে সংস্থাটিকে।

টিসিবির বাজার ব্যবস্থাপনা করার মতো সক্ষমতা নেই উল্লেখ করে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আমলাদের মাধ্যমে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের সক্ষমতা থাকা সম্ভব নয়। তার ওপর সংস্থাটির অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি তো রয়েছেই। বাজার স্থিতিশীল করার জন্য টিসিবির মতো প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করে দেয়া উচিত। ইতিহাস বলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান সফল হয়নি। রাষ্ট্রীয় মালিকানায় ও ব্যবস্থাপনায় পণ্য কেনা-বেচার মাধ্যমে বাজার স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা কাজ করে না। বরং প্রতিযোগিতা কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে বাজার এমনিতেই স্থিতিশীল হবে। আর দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করতে হলে সেটি নগদ সহায়তা দিয়েই করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘টিসিবির ব্যবসায়িক মডেল অনেকটা সামাজিক ব্যবসার মতো, যার মালিকানা সরকারের হাতে। বাজার স্থিতিশীল রাখা সংস্থাটির একটি উদ্দেশ্য। কিন্তু কিছু পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে টিসিবির সম্ভাবনা থাকলেও সেটি করতে পারেনি। যেমন পেঁয়াজ, চিনি ও ভোজ্যতেল। বাজারে দাম বাড়লে ভোক্তাকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য টিসিবি পণ্যের জোগান দেবে। অন্যদিকে পণ্যের দাম কমে গেলে উৎপাদনকারীকে সুরক্ষা দিতে পণ্য কিনবে। বাজার স্থিতিশীল রাখার জন্য এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটিই হচ্ছে ভূমিকা। কিন্তু এ ভূমিকা টিসিবি পালন করতে পারেনি। সংকটের সময়ে প্রতিষ্ঠানটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। সংস্থাটির আরেকটি দায়িত্ব হলো যেসব ভোক্তা বাজারদরে পণ্য কিনতে পারেন না, তাদের স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহ করা। কিন্তু সেক্ষেত্রেও দেখা যায়, টিসিবির পণ্যের জন্য প্রতিদিনই বিশাল লাইন তৈরি হচ্ছে। কিন্তু কিছু মানুষ পণ্য নেয়ার পরই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। দালালরাও এর মধ্যে ঢুকে পড়ছে। অব্যবস্থাপনার কারণে ভোক্তারাও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

দ্রব্যমূল্য ক্রমাগত বাড়তে থাকায় টিসিবির ট্রাকসেলে বা বিপণন কেন্দ্রে স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে আসা মানুষের লাইন ক্রমেই দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। বর্তমানে ফ্যামিলি কার্ড ছাড়াও পণ্য বিক্রি শুরু হলেও তাতে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। প্রতিদিন বিপণন কেন্দ্রগুলোর সামনে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়েও পণ্য কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন অনেকেই। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় পিছিয়ে থাকার পাশাপাশি সংস্থাটির বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও কম নয়। ২০১৮-১৯ থেকে ২০২০-২১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে করা বাংলাদেশ কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে (২০২২ সালের ৩৫ নম্বর কমপ্লায়েন্স অডিট রিপোর্ট) উঠে এসেছে, এ সময়ের মধ্যে সংস্থাটিতে ২৯৭ কোটি ৬ লাখ টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

টিসিবির বিক্রীত পণ্যের চাহিদা এখন ক্রমেই বাড়ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সংস্থাটি চিনি বিক্রি করেছে ৮৪ হাজার ৬২০ টন। সেখান থেকে বেড়ে চলতি অর্থবছরেই এ বিক্রির পরিমাণ দ্বিগুণের কাছাকাছি যাওয়ার প্রক্ষেপণ রয়েছে। সংস্থাটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে টিসিবি ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৪২ টন চিনি বিক্রি করেছে। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ১ লাখ ৪৪ হাজার টনে দাঁড়ানোর প্রক্ষেপণ রয়েছে। ডাল বিক্রির পরিসংখ্যানেও প্রায় একই চিত্র। ২০২২-২৩ অর্থবছরে টিসিবি ডাল বিক্রি করেছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪ টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী, এ সময় টিসিবি ডাল বিক্রি করেছে ২ লাখ ৯৭ হাজার ৮৯৯ টন। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৮৮ হাজার টনে।

ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে ২০২২-২৩ অর্থবছরে টিসিবি সয়াবিন তেল বিক্রি করেছিল ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৮৬ টন। প্রাক্কলিত হিসাব অনুযায়ী গত অর্থবছরে তা পৌঁছায় ২ লাখ ৬৬ হাজার ৩২ টনে। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৬০ টনে দাঁড়ানোর প্রক্ষেপণ রয়েছে। মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে চলতি বছর থেকে আলুও বিক্রি করছে টিসিবি। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে টিসিবি ওপরে উল্লিখিত পণ্যগুলোর বাইরে অন্যান্য পণ্য বিক্রি করেছে ২০ হাজার টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা ২৩ হাজার ৪৬১ টনে দাঁড়ায় বলে প্রাথমিক হিসাবে উঠে এসেছে। আর চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে তা ২২ হাজার ৪৬০ টনে দাঁড়ানোর প্রক্ষেপণ রয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘টিসিবি ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রি করে। এটি তো আর লাভজনক কিছু না। কাজের বিনিময়ে খাদ্য—এটি যেমন সরকারের একটি কর্মসূচি, তেমনি টিসিবির পণ্য বিক্রিও একটি কর্মসূচি। এ ধরনের কাজের একটা সম্প্রসারিত উদ্দেশ্য ভর্তুকি মূল্যে জনসাধারণের কাছে পণ্য পৌঁছানো। টিসিবির মাধ্যমে এ কাজটি করা হয়। ভর্তুকি দিতে গেলে একটি প্রতিষ্ঠানকে লোকসানেই পরিচালনা করতে হয়। কারণ ভর্তুকি কখনই লাভজনক নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘টিসিবি সামাজিক সুরক্ষার জন্য যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করে, এটা খুবই সুন্দর একটি প্রকল্প। প্রতিষ্ঠানটি বছরে প্রায় সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকার বাজেট পায়। যেখানে সরকার ভর্তুকি দেয় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। টিসিবির সক্ষমতা বাড়াতে গুদাম সুবিধা, জনবল বৃদ্ধিসহ নানারকম উদ্যোগ সরকারের রয়েছে।’

আরও